তুষার-নাঈম-সৌম্যকে ছাপিয়ে সেরা সাদমান
ডিটেকটিভ স্পোর্টস ডেস্ক
খুব কাছে গিয়েও ডাবল সেঞ্চুরি করতে না পারার আক্ষেপ আছে। ঢাকা মেট্রোকে প্রথম স্তরে নিতে না পারাটা পোড়াচ্ছে আরও বেশি। তবে সব না পাওয়ার হিসাব সাদমান ইসলাম মেলাতে চান পরেরবার। এনসিএলের সদ্য সমাপ্ত আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক জানালেন, যে কোনো পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে চান তিনি।
এবারের আসরের শুরুটা ২৩ বছর বয়সী সাদমানের জন্য ছিল দুর্দান্ত। এই আসরের আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট তার সর্বোচ্চ ছিল ১৪০। টানা দুই ম্যাচে নতুন করে লেখান নিজের ব্যক্তিগত সেরার রেকর্ড।
আবু জায়েদ চৌধুরী, খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও এনামুল হক জুনিয়রে গড়া সিলেটের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে করেন ১৫৭। পরের ম্যাচে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে নিজেকে নিয়ে যান আরও উঁচুতে, করেন ১৮৯ রান।
পরে আর বড় রান পাননি বাঁহাতি ওপেনার সাদমান। তবে আরও তিনটি হাফ সেঞ্চুরিতে এবারের আসরে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে করেন ছয়শ রান। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তুষার ইমরান তার চেয়ে ১৩০ রানে পিছিয়ে।
এনসিএলের শেষ দিনের খেলা শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় সাদমান জানান, দারুণ শুরুর পর নিজের কাছে আরেকটু বেশি রানের প্রত্যাশা ছিল তার।
“আরও কিছু রান যোগ হলে ভালো হত। আগামি মৌসুমে আরও বেশি রান করতে চাই। এবার ডাবল সেঞ্চুরির খুব কাছে চলে গিয়েছিলাম। সেটা করতে না পারার আক্ষেপ আছে। দলকেও নিয়ে যেতে পারিনি প্রথম স্তরে। সামনের মৌসুমে সুযোগ পেলে এই দুই আক্ষেপ দূর করার চেষ্টা করব।”
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে চমৎকার একটি আসর কাটিয়ে এবার সামনে তাকাতে চান সাদমান। নিজেকে প্রস্তুত রাখতে চান পরের চ্যালেঞ্জের জন্য।
“সামনে কোন ধরনের ফরম্যাটে খেলবো এখনও জানি না। যদি ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ হয় তাহলে এক ধরনের পরিকল্পনা থাকবে আবার যদি (প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের আরেক টুর্নামেন্ট) বিসিএল হয় তাহলে আরেক রকমের পরিকল্পনা নিয়ে এগোবো। আমি নিজেকে সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখব।”
৬ ম্যাচে ১০ ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি আর তিনটি ফিফটিতে ৬৪.৮০ গড়ে ৬৪৮ রান করেন সাদমান। এবারের আসরে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে খেলেন এক হাজারের বেশি (১১১৫) বল।
সাদমানের মতো শুরুটা দুর্দান্ত ছিল খুলনার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান তুষারেরও। প্রথম ম্যাচেই রাজশাহীর বিপক্ষে করেন ১০৪ ও ১৫৯ রান। সঙ্গে গড়েন বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে দুটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি।
এক ম্যাচ পর রংপুরের বিপক্ষেও সেঞ্চুরি করেন ৩৪ বছর বয়সী তুষার। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক বছরে সাত সেঞ্চুরি করে ৩৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান পেছনে ফেলেন ছয়টি করে সেঞ্চুরি করা নাঈম ইসলাম ও মোসাদ্দেক হোসেনকে।
৫ ম্যাচে ৯ ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি আর এক ফিফটিতে ৫৭.৫৫ গড়ে ৫১৮ রান করেন তুষার। সাদমানের পর কেবল তিনিই এবারের আসরে পাঁচশর বেশি রান করেছেন।
জাতীয় দলে আসা যাওয়ার মধ্যে থাকা সৌম্য সরকারের ব্যাটে ছিল ছন্দে ফেরার আভাস। জাতীয় দলের ডাকে এনসিএলের মাঝে দুবার খুলনা দল ছাড়েন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তাতে খেলায় খুব একটা প্রভাব পড়েনি।
এক সেঞ্চুরি আর চার ফিফটিতে সৌম্য ৬৭.২৮ গড়ে করেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪৭১ রান।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তুষারের মতো সেরা রান সংগ্রাহকদের তালিকার আরেক নিয়মিত মুখ নাঈম ইসলাম। রংপুরের এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এক সেঞ্চুরি আর তিন ফিফটিতে ৪৯.৩৩ গড়ে ৪৪৪ রান করে আছেন চার নম্বরে।
পাঁচ নম্বরে থাকা রনি তালুকদারের অর্ধেকের বেশি রান এসেছে এক ইনিংস থেকেই। ৪ ম্যাচে ৬ ইনিংসে ঢাকা বিভাগের এই ওপেনার ৮৫.২০ গড়ে করেন ৪২৬ রান। তার সর্বোচ্চ অপরাজিত ২২৮।
সেরা পাঁচের বাইরে চারশর বেশি রান আছে কেবল ঢাকা মেট্রোর টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান ও রাজশাহীর জুনায়েদ সিদ্দিকের।
এবারের আসর দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো সিলেটের রাজিন সালেহ ৬ ম্যাচে ৭ ইনিংসে ৪৯.৪২ গড়ে করেন ৩৪৬ রান। তার সেরা ৯৬। চার ফিফটির দুটি আসে তার বিদায়ী ম্যাচ থেকে।
সাদমান ও সৌম্যর পর মাত্র তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পাঁচটি ফিফটি ছোঁয়া ইনিংস খেলেন ফরহাদ হোসেন। রাজশাহীর এই ব্যাটসম্যানের সেরা ৮৩। ৮ ইনিংসে ৪৮.৪২ গড়ে করেন ৩৩৯ রান।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেটে টেস্ট অভিষেক হওয়া আরিফুল ইসলামের ব্যাট থেকে আসে এবারের আসরের সর্বোচ্চ। বরিশালের বিপক্ষে রংপুরের হয়ে ২৩১ রান করেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
আরিফুল-রনি ছাড়া ডাবল সেঞ্চুরি আর করেন কেবল লিটন দাস। ২০৩ রান করার পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি উপহার দেন আগের রেকর্ডকে অনেক পেছনে ফেলে। ছয় মাস আগে নিজের গড়া রেকর্ড গুঁড়িয়ে রংপুরের এই ওপেনার রাজশাহীর বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করেন মাত্র ১৪০ বলে।